
ঢাকা,
১৭ জানুয়ারি — রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অবস্থিত 'পালকি' হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক ও অবৈধ কার্যকলাপ চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। হোটেলের পঞ্চম তলায় রাতের বেলা সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলটি বাহ্যিকভাবে সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচিত হলেও ভেতরে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এমন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোটেলের সঙ্গে ফাহিম নামে এক ব্যক্তির সংযোগের কথা শোনা যাচ্ছে, যিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "রাতে হোটেলের পঞ্চম তলায় অস্বাভাবিক আনাগোনা দেখা যায়। এতে আশপাশের এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও যুবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিক।"
উত্তরা পশ্চিম থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোটেলের এই কার্যক্রম এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলে গোপনে অশ্লীল কার্যক্রম, মাদক সেবন ও অন্যান্য বেশ কিছু অবৈধ কাজ পরিচালিত হয়েছে।
একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, "এটি শুধু একটি হোটেলের সমস্যা নয়, পুরো এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, আমরা সামাজিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।"
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে রাজনৈতিক সংযোগ ও হোটেল মালিকের পরিচিতির কারণে তদন্ত কাজ জটিল হয়ে উঠেছে।
সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা হোটেল 'পালকি'-র কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। তাদের দাবি, হোটেল মালিক এবং যারা এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, 'পালকি' হোটেল উত্তরা এলাকায় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির একটি উৎস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সামাজিক নৈতিকতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, "আমরা চাই এই হোটেল বন্ধ করা হোক এবং এর পেছনের সব ধরনের প্রভাব তদন্ত করা হোক।" প্রশাসন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে এলাকাবাসী আশা করছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল চৌধুরী; অফিস: ফিরোজ মার্কেট ২য় তলা, শাপলা চত্বর টেকনাফ। মোবাইল ০১৩২৩৯৩৫৮৬৬
দৈনিক ঢাকার অপরাধ দমন