ওএমএস কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে জাকিরের দুর্ব্যবহার: তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

কাউছার আহমেদ পনির:

মিরপুর ১২ নাম্বার নতুন থানা পাশে বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকিরের দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সরকারি সেবা কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ
দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং সহকর্মী আনজার বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে অবস্থিত ওএমএস কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথিত সাংবাদিক জাকির দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মাজিদা খাতুন পরিচালিত এই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ভাতা প্রদান এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিরের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, কথিত সাংবাদিক জাকির সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অ্যাসাইনমেন্ট দেখান, আপনারা ভুয়া সাংবাদিক।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি এখানে অনেক সাংবাদিককে মারধর করেছি। শফিকুল গ্রুপ এবং রূপক গ্রুপের সাংবাদিকদের মারধর করেছি।” এই বলে তিনি স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ এবং আনজারকে মারার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওএমএস কেন্দ্রের তথ্য
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই ওএমএস ট্রাকসেল কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল বা আটা এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকায় সর্বোচ্চ ২ প্যাকেট বিক্রয়ের বিধান রয়েছে।
ডিলার মোহাম্মদ মাজিদা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কেন্দ্রে প্রতি রোজবার বিক্রয় কার্যক্রম চলে। অভিযোগ থাকলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২০০৪০৬৭৩) এবং হটলাইন (১৬১৫৫) নম্বরে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া
দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার কাউসার আহমেদ জানান, “আমরা শুধুমাত্র সরকারি ওএমএস কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবার মান যাচাই করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথিত সাংবাদিক জাকির আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং মারধরের হুমকি দেন। এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট হুমকি।”
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের অধিকার রাখেন। কোনো ব্যক্তি এই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
ওএমএস কেন্দ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি সেবা কর্মসূচি। এখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হুমকি প্রদান এই স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। যদি কেউ সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বা হুমকি প্রদান করে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুপারিশ ও পদক্ষেপ
সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, কথিত সাংবাদিক জাকিরের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ওএমএস কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং এবং সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তারা জনগণকে হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও নাগরিক সংগঠনগুলো বলেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *