মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভয়াবহ দুর্নীতির একটি চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ—দুর্নীতির এই বলয় পরিচালনার অন্যতম ব্যক্তি ওয়াসার এক কর্মকর্তা শফিক, যিনি নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও আর্থিক চাপে ফেলছেন। দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তা, নাড়িন্দা শাহ শাহেব লেনসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে তার দাপট অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, ওইসব এলাকার বহু বাসা থেকে তিনি মাসিক ‘মাসোহারা’ আদায় করে থাকেন। সাধারণ গ্রাহকরা মাসোহারা দিলে তাদের পানির বিল কমিয়ে দেওয়া হয়; আর কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বাড়তি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এলাকার বাসিন্দারা বছরের পর বছর আর্থিকভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার হাতে।
অভিযোগ রয়েছে—প্রতি মাসেই তিনি নিয়ম মেনে পানির মিটার থেকে রিডিং লিখে যান। কিন্তু সেই রিডিং অনুযায়ী সঠিক বিল আসে না। বরং তার ইচ্ছামতো তৈরি করা হয় বাড়তি বা কম বিল। বাসিন্দারা জানান, “মিটার রিডিং ঠিক থাকলেও বিল আসে অস্বাভাবিক বেশি। পরে শফিক এসে বলে, ‘সমাধান চাইলে কথা বলতে হবে।’ অর্থাৎ সরাসরি টাকা দাবি করে। এবং যারা মাসোহারা দেন তাদের পানির মিটার থেকে রিডিং না লিখেই চলে যান
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, “যে মাসে মাসোহারা দেই, বিল খুবই কম আসে। কিন্তু কোন কারণে যদি টাকা না দিই, পরের মাসে বিল দ্বিগুণ হয়ে যায়। অভিযোগ করতে গেলে কেউ গুরুত্ব দেয় না। উল্টো বলা হয়—ওয়াসার নিয়মেই নাকি বিল হয়েছে।”
স্থানীয়রা আরও জানান, শফিক শুধু মাসোহারা নেন না, বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের প্রভাবও খাটান। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওয়াসার লাইন সংকটে ফেলার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।
দুর্নীতির এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই চললেও কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হয়নি। এলাকাবাসী জানান, গ্রাহক ভোগান্তির কোনো শেষ নেই; তবুও ওয়াসার কেউ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আসে না। বরং অভিযোগ করলেই বিপদ আরও বাড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত শফিকসহ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নয়তো সাধারণ মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন,আমরা তার ০১৯১৯১৩৮১১৮ এই বিকাশ নাম্বার এর মাধ্যমে প্রতিমাসে বিল কমানোর জন্য টাকা দিয়ে থাকি।
এ বিষয়ে ওয়াসার উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের মতামত জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন—যদি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে রাজধানীর পানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল চৌধুরী; অফিস: ফিরোজ মার্কেট ২য় তলা, শাপলা চত্বর টেকনাফ। মোবাইল ০১৩২৩৯৩৫৮৬৬
দৈনিক ঢাকার অপরাধ দমন