প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ কার্যক্রম, আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার,
গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরের নলজানীস্থ ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিং মাঠ থেকে নিয়মিত অটোরিকশা, ব্যাটারি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড, পশ্চিম লক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন, পিতা: নসুর উদ্দিন, মাতা: বিমলা বানু এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড পাশাপাশি হওয়ায় উভয় ওয়ার্ডে তার জমিজমা রয়েছে। তার পুত্র মো. মুন্না মিনারা মেডিসিন নামে ওষুধের ব্যবসা পরিচালনা করেন।

অতীত ইতিহাস
সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর আগে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের গরুর খামার থেকে গরু চুরির অভিযোগে জামাল উদ্দিন আশুলিয়া থানার একটি মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করেন। তৎকালীন সময়ে তার বড় ভাই ভূমি দস্যু ও নলজানী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবদুল হাকিমের সহায়তায় অর্থ জরিমানা দিয়ে উক্ত মামলা থেকে খালাস পান।

৫ আগস্টের ঘটনা
অভিযোগ অনুসারে, ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে রাতের বেলা গাজীপুর মহানগর পুলিশের নলজানীস্থ ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিং মাঠ থেকে কমপক্ষে ৫০টি অটোরিকশা, প্রায় ১০০টি ব্যাটারি এবং বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি হয়। জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র নিয়মিতভাবে উক্ত ডাম্পিং মাঠ থেকে অটোরিকশা, ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ চুরি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসমাইলের মালিকানাধীন একটি নিসান জিপ ও একটি কার ব্যবহার করে এই চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
দালাল চক্রের সংযোগ
নলজানীস্থ ওয়্যারলেস রোডে জামাল উদ্দিনের মালিকানাধীন ‘জামাল মার্কেট’ নামে একটি বাজার রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত মার্কেটে চুরি করা অটোরিকশার ডাম্পিং স্লিপ ও বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ মজুত রাখা হয়। অভিযান চালালে এসব আটক করা সম্ভব বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও, ডাম্পিং মাঠ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশা মুক্ত করার কাজে নিয়োজিত একটি দালাল চক্রের সঙ্গেও জামাল উদ্দিন যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। মহানগর ট্রাফিক অফিসে কর্মরত তিনজন পুলিশ সদস্য মো. নাহিদ (ডিসি সাহেবের বডিগার্ড), রাসেল (ডিসি সাহেবের বডিগার্ড), অটো মিস্ত্রি আনোয়ার এবং এসআই সিদ্দিকের শ্যালক সোহেল নামীয় এক ব্যক্তিসহ আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই অপকর্মে লিপ্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিটি অটোরিকশা মুক্ত করতে তারা ১০,৫০০ টাকা করে অবৈধ অর্থ আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. আবদুল হাকিমের ভাই হওয়ায় জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উক্ত মার্কেটে অভিযান চালালে আটক করা অটোরিকশার ডাম্পিং স্লিপ এবং বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা সম্ভব বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কি একজন অভিযুক্ত চোরের কাছে অসহায়? নাগরিকরা দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করুক।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *