স্টাফ রিপোর্টার:-
“সাংবাদিকতা হলো সেই আয়না, যেখানে সমাজ নিজেকে দেখে।”
এই উক্তিটি শুধু একটি বাক্য নয়, এটি সাংবাদিকতার প্রাণ, তার অস্তিত্বের ব্যাখ্যা। সাংবাদিকতা এমন এক শক্তি, যা সমাজের ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, আলো-অন্ধকার—সব কিছু স্পষ্টভাবে তুলে ধরে মানুষের সামনে।
একটি আয়না যেমন কারো মুখে লেগে থাকা ধুলো মুছে দেয় না, বরং তা সৎভাবে দেখিয়ে দেয়; তেমনি সাংবাদিকতাও সমাজের মুখে লেগে থাকা মিথ্যা, দুর্নীতি আর অবিচারের দাগগুলো তুলে ধরে সত্যের আলোয়। একজন সাংবাদিকের কলম হলো সেই আয়নার কাচ, যার স্বচ্ছতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
যখন সমাজ অন্যায়ে, ভয়ে, বা বিভ্রান্তির অন্ধকারে ঢেকে যায়, তখন সাংবাদিকই প্রথম সত্যের আলো জ্বালিয়ে পথ দেখায়। একটি সঠিক সংবাদ শুধু তথ্য দেয় না, এটি মানুষকে চিন্তা করতে শেখায়, প্রশ্ন করতে শেখায়, পরিবর্তনের পথে হাঁটতে অনুপ্রাণিত করে।
ইতিহাস সাক্ষী—যে সমাজে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে সত্য বলতে পেরেছেন, সে সমাজ এগিয়েছে উন্নতির পথে। আর যেখানে কলম রুদ্ধ হয়েছে, সেখানে জন্ম নিয়েছে ভয়, মিথ্যা আর অন্যায়ের রাজত্ব।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি এক ধরনের প্রতিশ্রুতি—সত্যের প্রতি, মানুষের প্রতি, ন্যায়ের প্রতি। একজন প্রকৃত সাংবাদিক জানেন, প্রতিটি শব্দের ওজন আছে, প্রতিটি বাক্যের প্রভাব আছে। তার কাজ কেবল খবর লেখা নয়, বরং বিবেককে জাগ্রত করা।
আজকের ডিজিটাল যুগে সংবাদ পাওয়া যত সহজ, সত্য খুঁজে পাওয়া তত কঠিন। তাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এখন প্রয়োজন সেই স্বচ্ছ আয়নার, যেখানে সমাজ নিজেদের প্রকৃত চেহারা দেখতে পারবে—ভুলগুলো বুঝে সংশোধন করতে পারবে, আর সত্যের আলোয় নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারবে।
সাংবাদিকতা শুধু ঘটনার প্রতিবেদন নয়, এটি ইতিহাসের নির্মাতা। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকরাই গড়ে তোলেন এক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, যেখানে মানুষ নিজের মুখোমুখি হতে পারে বিনা ভয়ে, বিনা ভাণে।
কারণ সত্যিই—
“সাংবাদিকতা হলো সেই আয়না, যেখানে সমাজ নিজেকে দেখে।”
লেখকঃ
মোঃ রাব্বী মোল্লা
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
দপ্তর সচিব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ সোহেল চৌধুরী; অফিস: ফিরোজ মার্কেট ২য় তলা, শাপলা চত্বর টেকনাফ। মোবাইল ০১৩২৩৯৩৫৮৬৬
দৈনিক ঢাকার অপরাধ দমন