বাকলিয়া থানার রাজাখালীতে হোটেল গ্রীন সিটিতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: 

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী এলাকায় ‘হোটেল গ্রীন সিটি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে। অভিযোগে বলা হয়, হোটেলটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং এর আড়ালে চলছে অনৈতিক কার্যকলাপ, যার মূল হোতা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পথচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই হোটেলে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা দেখা যায়। আশপাশের দোকানদাররা অভিযোগ করেন, হোটেলটির পরিচালকেরা এলাকার কিছু যুবককে ব্যবহার করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এক দোকানদার বলেন, “দিন-রাত হোটেলটায় অচেনা লোকজন আসে যায়। মাঝেমাঝে পুলিশের গাড়িও দেখা যায়, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয় না।”

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে একাধিক ব্যক্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হোটেলটি পরিচালনার পেছনে রয়েছেন আজিজ ও কায়েস নামের কয়েকজন ব্যক্তি। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। তাদের প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এলাকাবাসী সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এলাকাবাসীর দাবি—বাকলিয়া থানা পুলিশ এ বিষয়ে অবগত থাকলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। অনেকের অভিযোগ, হোটেল মালিক ও পরিচালকদের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।
বাকুলিয়া থানার এক কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। কারও বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ মেলে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সমাজে নেতিবাচক প্রভাব

সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে এ ধরনের কার্যকলাপ বাড়তে থাকলে তা তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরীদের জড়ানো এক গভীর নৈতিক সংকট সৃষ্টি করছে।

প্রশাসনের প্রতি দাবি

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে হোটেল গ্রীন সিটি ও এর সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এখনই কঠোর অভিযান না চালালে এই এলাকা সম্পূর্ণ অপরাধের আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে।”

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *