
বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার জিনসার গ্রামে অবস্থিত মেসার্স আল মদিনা বেকারিতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ব্রেড, কেক, পাউরুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতে অননুমোদিত ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বেকারিটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। খাবার তৈরির স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ন্যূনতম মান বজায় রাখা হয়নি। কাঁচামাল সংরক্ষণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুত খাবার সংরক্ষণে চরম অবহেলা লক্ষ করা গেছে। এতে সহজেই খাদ্যপণ্য দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বেকারিটি কোনো ধরনের মাননিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিএসটিআই লাইসেন্স দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ফলে অনুমোদন ছাড়াই খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এই বেকারি থেকে তৈরি পণ্য আমরা প্রতিদিন কিনছি। কিন্তু এখানে যে এত নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে, তা জানতাম না। এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য উৎপাদনে অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পুষ্টিবিদ ডা. নাসরিন সুলতানা বলেন, “অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরি খাবার নিয়মিত খেলে ক্যান্সারসহ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বেকারিটির বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বিষয়টি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল করিম জানান, “আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেকারিটি পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিএসটিআই কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জানান, “অনুমোদন ছাড়া খাদ্য উৎপাদন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, বিএসটিআই ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনতিবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, লাইসেন্স যাচাই ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।