টিকাটুলিতে অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন সমাজসেবক মোহাম্মদ জামাল

নিজস্ব প্রতিবেদন

রাজধানীর টিকাটুলি-ওয়ারি এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অন্যতম সদস্য ও সমাজসেবক মোহাম্মদ জামাল। শুক্রবার সকালে এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিতরণকৃত শীতবস্ত্রের মধ্যে রয়েছে গায়ের চাদর, জ্যাকেট ও সোয়েটার। এলাকার ফুটপাতবাসী, রিকশাচালক, দিনমজুর ও অতি দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এসব শীতবস্ত্র।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ জামাল জানান, “সমাজের বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ছোট একটি উদ্যোগেও অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, নিজের বেতনের একটি অংশ জমিয়ে তিনি এই শীতবস্ত্র ক্রয় করেছেন। “আমি একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। তবে মনে করি, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হলেও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। প্রতি বছর শীতকালে আমি এভাবে চেষ্টা করি অসহায় মানুষদের কিছুটা হলেও সহায়তা করতে,” যোগ করেন তিনি।
শীতবস্ত্র গ্রহণকারী ফুটপাতবাসী রহিমা বেগম বলেন, “আল্লাহ তার মঙ্গল করুন। শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় উপকার।”
রিকশাচালক আবদুল হামিদ জানান, “সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। শীতের সময় অনেক কষ্ট হয়। এমন মানুষ আছেন জেনে ভালো লাগছে যারা আমাদের কথা ভাবেন।”
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা মোহাম্মদ জামালের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তিনি নিয়মিত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান।
উল্লেখ্য, দেশে এবার শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসহায় ও গৃহহীন মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সমাজকল্যাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এভাবে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মোহাম্মদ জামাল জানান, আগামীতেও তিনি নিয়মিত এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। তিনি সমাজের সচ্ছল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে সমাজের কোনো মানুষকেই অসহায় অবস্থায় থাকতে হবে না।”
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *