নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার:-
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সকল কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও বিল সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও একাধিক ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস ব্যয়, বিদ্যালয় পরিচালনা ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে মৌখিকভাবে অর্থ প্রদানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সরাসরি ঘুষের কথা না বললেও সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়—অর্থ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর মিলবে না।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় সংস্কার বরাদ্দের বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলন করতেও ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করা হয় না। বিল জমা দেওয়ার পর দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানো হয় ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেনের পরিবার অন্যতম। অবসর গ্রহণের পর অসুস্থতাজনিত কারণে বাবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার প্রাপ্য অবসরভাতা উত্তোলন করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হন তার পরিবার।

বাবুল হোসেনের স্ত্রী সোহনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী দীর্ঘদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসর নিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে আমরা চরম সংকটে পড়ে যাই। অবসরভাতা তুলতে গেলে হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা আমাদের ফাইল পার করায়নি। দিনের পর দিন ঘোরানোর পর একপর্যায়ে তিনি এক লাখ টাকা দিলে ফাইল পার করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাধ্য হয়ে মানুষের কাছ থেকে সুদের ওপর টাকা এনে তাকে সেই ঘুষ দেই। টাকা দেওয়ার পরেই তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, “২০২২ সালে অবসর নেওয়ার পর সব কাগজপত্র ঠিকঠাক করে অফিসে জমা দেই। কিন্তু হিসাব সহকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইলে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকে। পরে এক মাধ্যমে আমার কাছে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার পরই অবসরভাতা তুলতে পেরেছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসে কোনো বিল সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। ছোট বরাদ্দের টাকা থেকে কাজ করব নাকি ঘুষ দেব—এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় শিক্ষকদের। প্রতিবাদ করলে বরাদ্দ বন্ধ বা নানা ধরনের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস করেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কয়েকবার ফোন কেটে দেন। পরে আবার ফোন করা হলে তার স্বামী ফোন রিসিভ করে জানান, নাসরিন সুলতানা অফিস থেকে এসে অসুস্থ বোধ করছেন এবং কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *