রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের রাজত্ব সহকারী ফয়সালের

তথ্য : ইসলাম উদ্দীন  তালুকদার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেন ঘুষ ও অনিয়মের এক অভয়ারণ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ—সাব-রেজিস্ট্রারের নীরব সমর্থন ও প্রত্যক্ষ যোগসাজশে অফিস সহকারী ফয়সাল প্রতিদিন “অফিস খরচের” নামে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করছেন।

দীর্ঘদিনের প্রভাব

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় হওয়ায় ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসে নিজের প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার বদল হলেও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বদলির আদেশ এলে তদবির করে দ্রুত পুনর্বহাল হওয়ার নজিরও রয়েছে।

ঘুষ আদায়ের প্রক্রিয়া

দলিল লেখক ও নকল নবীসদের মাধ্যমে প্রতিটি দলিলের নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নির্ধারণ করা হয়। দুপুরের পর থেকে অফিস বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত টাকার লেনদেন চলে নিয়মিতভাবে। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘুষের বড় অংশ সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছেও পৌঁছায়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ঘুষ ছাড়া কোনো দলিলের কাজ এগোয় না। বরং ঘুষের বিনিময়েই জাল দলিল, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়, যাতে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। ফয়সালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—ভূমি কর্মকর্তাদের নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে কাগজপত্র প্রস্তুত করা, যেখানে কিছু অসাধু দলিল লেখকও সহযোগী হিসেবে যুক্ত।

বিলাসী জীবনযাপন

স্থানীয় সূত্র বলছে, একটি অফিস সহকারীর সরকারি বেতনে প্রাইভেটকার চালানো বা জমি-বাড়ির মালিক হওয়া সম্ভব নয়। অথচ ফয়সাল নিয়মিত প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন এবং চাকরির সুবাদে গত কয়েক বছরে স্ত্রীর নামে ও বেনামে একাধিক জমি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন।

দলিল লেখকদের বাধ্যবাধকতা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রার কোনো ফাইল ঘুষ ছাড়া সই করেন না। প্রতিদিন বিকেলে সব হিসাব মিলিয়ে টাকা জমা দিতে হয় ফয়সালের কাছে। ফলে তারা বাধ্য হয়েই এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন।

দুদকের হস্তক্ষেপের দাবি

রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলমান ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র। ভুক্তভোগীদের দাবি—দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিক।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *