ইউরোপে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, রহিমা বেগম রানুর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছেন রহিমা বেগম রানু। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রহিমা বেগম রানু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও কথিত প্রভাবকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদ-পদবি যা-ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ইউরোপে কর্মসংস্থানের প্রলোভন, অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ লাখ লাখ টাকা

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এসব অর্থ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ চুক্তিপত্র, ব্যাংকিং লেনদেনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রমাণ তাঁরা পাননি।

অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা, বিদেশে কর্মসংস্থানের অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে তাঁরা স্পষ্ট তথ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হন। তাঁদের অভিযোগ, কখনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ এলাকায় পাওয়া যায় না, কখনো যোগাযোগ বন্ধ থাকে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অর্থ ফেরত পাওয়া যায় না।

কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এ ধরনের বিরোধের জেরে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মামলা-মোকদ্দমার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বিদেশে যাওয়ার আশায় নিজেদের সঞ্চয়, ধার করা টাকা কিংবা পরিবারের জমানো অর্থ দেওয়ার পর এখন তাঁরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এ ধরনের লেনদেনের ঘটনায় পরিচিতজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে অভিযোগের সংখ্যা, আর্থিক ক্ষতির মোট পরিমাণ এবং প্রত্যেক ঘটনার প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে পৃথকভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁদের অভিযোগের সুরাহা হয়নি। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে কিংবা অভিযোগকারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিলের দাবি

ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, রহিমা বেগম রানুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা, অর্থ লেনদেনের নথি পরীক্ষা করার এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ, বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক পরিবার নিজেদের সঞ্চয় ব্যয় করে কিংবা ঋণ নিয়ে অর্থ জোগাড় করে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন।

প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *