নিজস্ব প্রতিবেদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগ ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় হাসিবুল হাসান অনিক ওরফে ‘ময়লা অনিক’সহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সজিব (২৭) নামের এক ব্যক্তি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, যুবদলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ডিস ও ইন্টারনেটের ক্যাবল ছেঁড়া এবং তা মেরামতের খরচ নিয়ে বিরোধ থেকে। অভিযোগকারী সজিব পেশায় ডিস ও ইন্টারনেটের মিস্ত্রি এবং অনিকের অধীনে কাজ করতেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকায় হারুন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে অভিযুক্তরা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্যাবল মেরামতের খরচের তুলনায় দাবিকৃত অর্থ বেশি হওয়ায় ওই ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে হাসিবুল হাসান অনিক মীরেরবাগ ঈদগাহ-সংলগ্ন ডিস অফিসে সজিবকে ডেকে নেন। সেখানে অন্য অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সজিবের অভিযোগ, তাঁকে ঘুষি ও লাথি মারাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় এবং পরে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ঢামেকে চিকিৎসা, থানায় অভিযোগ
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপের আশ্বাস
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাসিবুল হাসান অনিক ও অন্য তিনজনের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।