রাতের আঁধারে ও দিনের আলোতে ড্রেজারের গর্জন, হুমকিতে কবরস্থান ও কৃষিজমি: বরুড়ায় মাটি উত্তোলনের অভিযোগ

 

(মন্দুক বাগানবাড়িতে রিপনের বিরুদ্ধে মাটি বিক্রির অভিযোগ, আরিফপুর বড়দীঘিতেও একই চিত্র; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী)

স্টাফ রিপোর্টার:-

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দুটি স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর খোশবাস ইউনিয়নের আরিফপুর বড়দীঘি এবং ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নের মন্দুক বাগানবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।

মন্দুক বাগানবাড়ি এলাকায় রিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে আরিফপুর বড়দীঘিতে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে মনির মেম্বার ও রাজন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ছয় মাস ধরে চলছে কার্যক্রম, বাড়ছে উদ্বেগ:
স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্দুক বাগানবাড়ি এলাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন চলছে। রাতের অন্ধকারে কাটা মাটি বোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। গভীর করে মাটি কাটার ফলে পাশের কবরস্থান ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আশপাশের কৃষিজমি ধসে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও দেখছেন এলাকাবাসী।

তবে এসব আশঙ্কার প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।

বন্ধ হয়েও থামেনি, প্রশ্ন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে:
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষিজমিতে এভাবে ড্রেজার চালিয়ে মাটি কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার তা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে গত ২২ অক্টোবর ভূমি কর্মকর্তা আহসান হাফিজকে অবগত করা হলে তিনি ২৩ অক্টোবর অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে বলে জানান। তবে ২৪ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে আহসান হাফিজকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনিকে জানানো হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *