ক্রীড়া প্রতিবেদক :
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গতরাতে শেষ হাসি ব্রাজিলই হেসেছে। তবে নিজেদের জয়ের পাশাপাশি পুরো ম্যাচ জুড়ে স্কটিশ সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস আর হর্ষধ্বনির বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে দল হারলেও গ্যালারি মাতিয়ে রেখেছিলেন স্কটল্যান্ডের সমর্থকরা, যা ফুটবল বিশ্বে আলাদা প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
আর এই বিষয়টি উঠে এসেছে ব্রাজিলের সর্বাধিক বিক্রিত এবং প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’র আজ সকালের সংস্করণেও। পত্রিকাটিতে ‘টার্টান আর্মি’ নামে পরিচিত স্কটিশ সমর্থকদের ধন্যবাদ আর শুভকামনা জানানো হয়েছে।
মায়ামির গ্যালারিতে স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা তাদের দলকে চাঙ্গা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনো যান্ত্রিক শক্তি বা ‘ফর্কলিফ্ট’ দিয়েও আসলে স্কটল্যান্ডকে টেনে তোলা সম্ভব ছিল না—বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে তারা যেভাবে ছন্নছাড়া রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও আক্রমণভাগের ব্যর্থতা:
খেলার শুরু থেকেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সামনে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে স্কটিশরা কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তারা ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে লক্ষ্য করে গোলমুখে পাঁচটি দারুণ শট নিয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ তাদের হাত থেকে ফসকে গেছে। ‘ও গ্লোবো’ তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, “মাঠে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের অভাব থাকলেও, স্কটল্যান্ড তাদের সমর্থকদের নিয়ে এক দারুণ প্রদর্শনী দেখিয়েছে।”
ভিনিসিয়াসের সেই ম্যাজিক:
তবে মায়ামির গ্যালারিতে স্কটিশদের বর্ণিল উপস্থিতি আর উৎসবের আমেজ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়, যখন মাঠে নিজের চেনা রূপে আবির্ভূত হন সেলেসাও তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং আর গতির ঝড় স্কটিশ রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছাড়ে। ভিনির পারফরম্যান্স ছিল ঠিক এমন—যেন কোনো জমকালো পার্টিতে আচমকা ঢুকে কেউ উঁচু শব্দে বেজে চলা গান থামিয়ে দিল এবং সবাইকে যার যার বাড়ি চলে যেতে বলল! বস্তুত, গ্রুপ পর্বের এই বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্রাজিল দলগতভাবে এমন এক আধিপত্য বিস্তার করে দেখাল, যা ম্যাচের আগে অনেকেই অসম্ভব ভেবেছিলেন।
বিশ্বকাপ সমীকরণ ও পরবর্তী ম্যাচ:
এই হারের ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার তীব্র শঙ্কায় পড়েছে স্কটল্যান্ড। নকআউট পর্বে যেতে হলে এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোর জটিল সমীকরণ এবং নিজেদের শেষ ম্যাচের ভাগ্যের ওপর। অন্যদিকে, এই জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ব্রাজিল পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে আগামী সপ্তাহে, যেখানে তাদের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করা।