মালয়েশিয়ায় পড়তে গিয়ে বিপাকে তিন শিক্ষার্থী, ১৯ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

রিনা আক্তার ::

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে আর্থিক অনিয়ম ও ভর্তি-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ‘ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশন’-এর মালিক জিহাদ আহমেদ ও জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য মোট ১৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমা না হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের প্রচারণা দেখে তাঁরা মালয়েশিয়ায় পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের Genovasi University-তে ভর্তির আশ্বাস দিয়ে অফার লেটার দেয়। পরে ২৭ নভেম্বর তিন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে চার লাখ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, পরে অফার লেটারটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চান। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্ভব নয় বলে জানানো হয় এবং বিকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। পরবর্তী সময়ে দুজনের জন্য UPTM University এবং একজনের জন্য Perdana College-এর অফার লেটার দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুই মাসের মধ্যে ভিসা সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হলেও চার থেকে ছয় মাস পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা আগের এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া বন্ধ করেন। তবে জমা দেওয়া চার লাখ টাকা ফেরত পাননি বলে দাবি করেন।

পরে জাহিদ হাসানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হলেও দেশটিতে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জমা হয়নি।

তাঁদের দাবি, জিহাদ আহমেদ ও জাহিদ হাসানের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় গিয়ে একই ধরনের সমস্যায় পড়া অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তাঁদের পরিচয় হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমা না থাকলে ভর্তি, পড়াশোনা ও ভিসার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অফার লেটার ও কথোপকথনের প্রমাণ রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার তদন্ত করে ১৯ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *