রাঙামাটিতে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও পরে হত্যার ঘটনায় মো. মাহিবুর কামাল (২৩) ওরফে মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। ২০২২ সালের ১১ মার্চ কাপ্তাইয়ের নতুনবাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল গ্রামের মো. মনির উদ্দিনের ছেলে মহিবুল্লাহ কাপ্তাই নতুনবাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। ওই সুবাদে হাছিনা বেগম সুমীর (২৮) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

হাছিনা কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাইখালীবাজার ফেরিঘাট কাজীপাড়ার মৃত আব্দুর রশিদ ও আমেনা বেগমের মেয়ে। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দোভাষীবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ মার্চ হাছিনা কাপ্তাইয়ের নতুনবাজারে গেলে আর বাসায় ফেরেননি। স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ১২ মার্চ কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে আগুনে পোড়া ও বিকৃত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মা আমেনা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, মহিবুল্লাহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাছিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। একপর্যায়ে হাছিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় অন্য এক মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে বলেও জানান বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে।

মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১১ মার্চ রাতে মহিবুল্লাহ হাছিনাকে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই হাছিনার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনায় নিহত হাছিনার মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতীম রায়। অন্যদিকে, আসামিকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *