নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি একটি দফতরের সহকারী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের মাধ্যমে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ফয়সাল আহমেদ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করে সহযোগীদের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। এমনকি সাধারণ সনদপত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রেও টাকা দাবি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সরকারি সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে—এমন দাবি করা হলেও, এ প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।