প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা, সন্তানের পিতৃপরিচয় চেয়ে আদালতে তরুণী

স্টাফ রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক কলেজছাত্রী অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের কাঁদাই বাদলা গ্রামের। ভুক্তভোগী আঁখি খাতুন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা জহির উদ্দিন আকন্দ।

আঁখির পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত রমজান মন্ডলের ছেলে রানা মন্ডলের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর আগে রানা পারিবারিকভাবে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর আঁখি ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার চেষ্টা করলেও রানা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের পূর্বের সম্পর্কের অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আঁখিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। একপর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগও ওঠে রানার বিরুদ্ধে। পরে আঁখি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে পরিবার জানায়।

আঁখির গর্ভধারণের বিষয়টি রানা মন্ডলকে জানানোর পর তাকে শাহজাদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে গর্ভের বয়স ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে চিকিৎসকেরা এতে সম্মতি দেননি বলে তাদের দাবি। বর্তমানে আঁখির গর্ভের বয়স প্রায় সাত মাস।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়। পরিবারের ভাষ্য, এসব বৈঠকে অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে রানা মন্ডলের সঙ্গে আঁখির বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সিদ্ধান্ত হলেও বিভিন্ন সময়ে রানা বিয়ে থেকে সরে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।

সালিশে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় আঁখির মা আদুরী খাতুন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর রানা মন্ডল ফোনে হুমকি দিচ্ছেন। এতে আঁখির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা।

বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের প্রধান ও সাবেক ইউপি সদস্য মইনুল হোসেন বলেন, রানা ও আঁখির বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শাহজাদপুর কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে রানা মন্ডলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে আঁখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *