এইচ এম হাকিম:
বিআইডব্লিউটিএ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বেশ কিছু সরকারি দপ্তরকে টার্গেট করে ‘দুর্নীতির ডায়েরী’ ও ‘আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’ নামক নিবন্ধনহীন ও ভুঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টালের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে ‘দুর্নীতির ডায়েরী’সহ কয়েকটি অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল থেকে তাঁর নামে সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
এর কিছুদিন আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট থেকেও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়। সেখানে নিজেকে ‘দুর্নীতির ডায়েরী’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক পরিচয় দেওয়া জসিম নামের এক ব্যক্তি ভুক্তভোগী প্রকৌশলীর নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই টাকা লেনদেনের অকাট্য ডকুমেন্টস ও প্রমাণাদি ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
উক্ত ‘দুর্নীতির ডায়েরী’ নামক ওয়েবসাইটের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে আরও জানা যায় যে, এই অনলাইন পোর্টালটিকে মূলত বিভিন্ন বিতর্কিত ও আওয়ামীপন্থি ব্যক্তিকে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তারা মূলত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তদবির ও চাঁদাবাজির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
এই অপসাংবাদিক ও চাঁদাবাজ গ্রুপটিকে রুখে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং মূলধারার সৎ গণমাধ্যমকর্মীদের একযোগে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজ অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাংবাদিকতা একটি পবিত্র ও মহৎ পেশা। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ‘দুর্নীতির ডায়েরী’ ও ‘আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’-এর মতো কিছু নিবন্ধনহীন ও ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল এই পেশাকে কলঙ্কিত করছে। এরা মূলত কোনো সাংবাদিক নয়, বরং পেশাদার চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলার, যারা সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর হুমকি দিয়ে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যা একটি চরম অপরাধ। একটি স্বাধীন দেশে সাংবাদিকতার নামে এমন মগের মুল্লুক চলতে পারে না। সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতি আমার স্পষ্ট আহ্বান থাকবে, আপনারা এই ধরনের ভুঁইফোড় ও ভুয়া সাংবাদিকদের কোনো রকম প্রশ্রয় না দিয়ে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং থানায় মামলা দায়ের করুন। একই সঙ্গে মূলধারার বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা এই অপসাংবাদিকদের মুখোশ উন্মোচন করে এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে এখনই রুখে দাঁড়ান। নতুবা গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের ন্যূনতম বিশ্বাসটুকুও হারিয়ে যাবে।”
বর্তমানে এই ভুঁইফোড় চক্রের ক্রমাগত হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হয়ে ডিজিটাল অপরাধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এই চক্রের মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।